নীল ডায়েরি।
পর্বঃ১
মোঃ শাহ্দাৎ সিরাজ
-দেখো!দেখো!!কী অদ্ভুত একটি ডায়েরি।
আমি আর আমার স্ত্রী সাদিয়া মার্কেট থেকে রিক্সায় বাসা ফিরছিলাম।রাত ১০ঃ০০ ছুঁই ছুঁই।
আমি তাকিয়ে দেখি,রাস্তার পাশে একটি নীল রংয়ের ডায়েরি পড়ে আছে। ধুলোর আস্তরণ যেন নীল রং কে হালকা ধূসর করে তুলেছে। কিন্তু তারপরও ল্যাম্পপোস্টের আলো ডায়েরিকে জীবন্ত করে রেখেছে। যে কেউ দেখে মনে করবে কাদামাটির মাঝে কেউ পরম যত্নে নীল নকশা করে রেখেছে। সাদিয়া আমার নিষেধ সত্ত্বেও রিকশা থেকে নেমে ডায়েরিটা হাতে নিল।ইসলাম কোন পাওয়া জিনিস নিতে নিষেধ করেছে। হয়তো ব্যক্তি তার হারানো বস্তুটি খুজতে আসবে।সাদিয়া যুক্তি দিল ডায়েরিটা অনেক দরকারি।দুষ্টু লোকের হাতে গেলে নষ্ট করে ফেলবে। আমরা কাল নিচের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেব।দামি আর তাকে না বলতে পারিনি।
ওহ আমাদের পরিচয় তো দেওয়া হয়নি।আমি সাজিদ।পেশায় একজন বিসিএস ক্যাডার।ছোটবেলা থেকেই মোটামুটি ইসলামের চর্চা করতে চেষ্টা করি।আর সাদিয়া আমার স্ত্রী। আমাদের বিয়ে হয়েছে দুই বছর।তার বাবা একজন বিখ্যাত আলেম।সে তার বাবার কাছ থেকেই ধর্ম চর্চা শিখেছে। বাবার দিক থেকে তাদের নবম পুরুষ মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের সাথে মিলিত হয়েছে। মায়ের দিক থেকেও সে সম্ভান্ত্র।
- আমি ডায়েরিটা নিব এবং আগামীকাল এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেব।( সাদিয়া)
- আচ্ছা নাও( আমি)
রাতে ঝুম বৃস্টি হচ্ছে। বর্ষায় টিনের ঘরে বৃষ্টির শব্দ যেন ভিন্ন রকম পরিবেশ তৈরি করে।আমাদের ঘরটি চার রুমের।পেছনে আমরা,সামনে বাবা আরও দুটি রুম মেহমান খানা।বাড়ির উত্তর আঙিনায় বাহারি রকমের ফুলের গাছ।মাঝ রাতে নাম না-জানা ফুলের ঘ্রাণ পরিবেশকে আরো রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। আজ চাদের দেকা নেই ;হয়তো মেঘের বুকে বাসা বেধেচে সে।আমি ঘুমাতে যাব এমন সময় টেবিলের উপর নীল ডায়েরিটির দিকে নজর যেতেই চমকে ওঠলাম। চার দিন আগে আমি ডায়েরিটি কুরিয়ার করে পাঠিয়েছি।ড্রিম লাইটের আলোতে এটা আরো নীল হয়ে ওঠেছেএবং আরো জীবন্ত দেখাচ্ছে। আমি একপা দু পা করে ডায়েরির দিকে এগোতে লাগলাম। হাত দিয়ে ছুঁতে মনে হিরো কোন অদৃশ্য শক্তি আমাকে আঁকড়ে ধরেছে। আমার পুরো দেহ অজানা ভয়ে আড়স্ঠ।পিছনে কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। হাত মুষ্ঠি করে ফিরতেই দেখি সাদিয়া।
-ডায়েরিটি সকালে রিটার্ন এসেছে। ঠিকানা নাকি ভূয়া।
আমি ডায়েরিটা হাতে নিয়ে প্রথম পাতা উল্টাতেই বড় বড় অক্ষরের কয়েকটি লেখা দেকে আৎকে উঠলাম।
চলবে
